
ছোট পর্দা ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ইয়াশ রোহান সম্প্রতি তার স্কুলজীবনের এক বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শৈশবে তাকে ভয়াবহ বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল, যা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
মাছরাঙা টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে-এ অংশ নিয়ে ইয়াশ বলেন, তার স্কুলজীবন ছিল অত্যন্ত ট্রমাটিক। ছোটখাটো গড়ন ও চেহারাগত অপরিণততার কারণে সহপাঠীদের কাছ থেকে নিয়মিত কটূক্তি ও অপমানের শিকার হতেন তিনি।
তার ভাষায়, বুলিংয়ের পেছনে অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট কারণ থাকে না। তিনি বলেন, “কাকে কেন বুলিং করা হয়, সেটার কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।” তবে তিনি নিয়মিতভাবেই এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, যা তার মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।
ইয়াশ আরও জানান, বর্তমানে বুলিং নিয়ে সমাজে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। কিন্তু তার স্কুলজীবনে এমন কোনো সচেতনতা ছিল না। তখন অনেকেই বুঝতেই পারতেন না যে এই আচরণটি ‘বুলিং’ হিসেবে পরিচিত।
অভিনেতা স্বীকার করেন, সেই সময়ের স্মৃতি এখনও তাকে নাড়া দেয়। অন্যদের মতো স্কুলজীবনের সুখস্মৃতি তার নেই বললেই চলে। বরং সেই সময়টিকে তিনি তার জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিনয়জগতে ইয়াশ রোহান-এর যাত্রা শুরু হয় টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে। পরে স্বপ্নজাল সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এছাড়া পরাণসহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা, নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইয়াশ রোহানের বাবা নরেশ ভূঁইয়া এবং মা শিল্পী সরকার অপু—দুজনই দেশের অভিনয় অঙ্গনের পরিচিত মুখ। পারিবারিকভাবে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজের প্রতিভা দিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিয়েছেন ইয়াশ।
সবশেষে, তার এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো এবং একটি সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।