
জ্ঞান মানুষের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। দুনিয়ার ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা খ্যাতি সাময়িক মর্যাদা দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান ও আল্লাহভীতি মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই সম্মানিত করে। ইসলাম ধর্মে ইলম অর্জনকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাজিলকৃত প্রথম ওহির সূচনাও ছিল ‘পড়ো’, যা জ্ঞানের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
তবে শুধু চেষ্টা করলেই জ্ঞান অর্জন সম্পূর্ণ হয় না; প্রয়োজন আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, তাওফিক ও বরকত। এ কারণে কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পাঠ করলে উপকারী জ্ঞান, সঠিক উপলব্ধি এবং প্রজ্ঞা অর্জন সহজ হয়।
প্রথম দোয়াটি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর, যেখানে তিনি আল্লাহর কাছে প্রজ্ঞা এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রার্থনা করেছেন। এই দোয়া আমাদের শেখায় যে, শুধু জ্ঞান নয়—সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং নেককারদের সঙ্গও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় দোয়াটি অত্যন্ত পরিপূর্ণ একটি প্রার্থনা, যেখানে উপকারী জ্ঞান অর্জন, শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞানকে কাজে লাগানোর তাওফিক চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এতে আখিরাতের মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনাও রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করতেন।
তৃতীয় দোয়াটি দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য। এটি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর করা একটি বিশেষ দোয়া। এর বরকতেই তিনি পরবর্তীতে ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
আমাদের উচিত প্রতিদিন এই দোয়াগুলো পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা—বিশেষ করে পড়াশোনা শুরু করার আগে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় কিংবা নতুন কিছু শেখার সূচনায়। মনে রাখতে হবে, জ্ঞান তখনই কল্যাণকর হয়, যখন তা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উপকারী জ্ঞান, বিশুদ্ধ প্রজ্ঞা এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।