
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মামলাবাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ভোটারদের কাছে সমর্থন চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, এলাকার মানুষকে জিম্মি করে অন্যায়ের রাজনীতি আর চলতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনী গ্রামে আয়োজিত এক পথসভায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “আর কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ মাটি ভরাট, দোকান দখল কিংবা মামলাবাণিজ্য হতে দেবো না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জুলুমের বিরুদ্ধে আপনারা ভোট দেবেন।” তিনি নিজেকে এলাকার ঘরের মেয়ে উল্লেখ করে বলেন, “আমি আপনাদের প্রার্থী। আমি কোনো দলের না, আমি আপনাদের পাশে থাকার প্রার্থী।”
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন। “আমি শেখ হাসিনার মতো একজন ফ্যাসিস্টের সামনে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে শক্তি দিয়েছে। আপনারা আমাকে সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন,”—বলেন তিনি।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের ভয় পেলে চলবে না। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি আপনাদের পাশে থাকব।” অতীতের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন সময় গেছে যখন দলের কর্মীরা ধানক্ষেত ও বিলের মধ্যে লুকিয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। তখন অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে গেলেও তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।
ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, “সে সময় আমার বক্তব্য শুনে কর্মীরা সাহস পেত। তারা ভাবত—না, আমরা ভেসে আসি নাই। এই বিশ্বাসই আমাকে আজও শক্ত করে রেখেছে।”
পথসভায় উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ চাঁদাবাজি ও দখলদারির রাজনীতিতে অতিষ্ঠ। এ ধরনের বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে তারা মনে করছেন।
এ সময় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থক ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এই অবস্থান ও ভাষ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।