
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয় শিশুই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এতে দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে ঢাকা বিভাগের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮১৬ শিশুর মৃত্যুর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৭২১ শিশু। যদিও উপসর্গভিত্তিক এসব মৃত্যুর ক্ষেত্রে সব রোগীর পরীক্ষাগারে হাম শনাক্ত হয়নি, তবুও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে নজরদারির আওতায় রেখেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ২৭২ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন।
এর মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে নতুন সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে ৩৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ হাজার ৫৭৫ জন, যা দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংক্রমণের প্রবণতা বিবেচনায় ভবিষ্যতেও নিয়মিত নজরদারি ও তথ্য প্রকাশ অব্যাহত থাকবে।