
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশন ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে জাতীয় দলের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোলপোস্টে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি শটও নিতে পারেনি। পাশাপাশি কয়েকটি শৃঙ্খলাজনিত ঘটনাও আলোচনায় আসে।
এরপর ‘আর্জেন্টিনা আউট’ শিরোনামে একটি অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়। এতে দাবি করা হয়, আর্জেন্টিনার আচরণ ‘সুন্দর খেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে’ এবং ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে দলটিকে নিষিদ্ধ করা উচিত। প্রচারণার আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এতে বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশের সমর্থকদের কাছ থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখের বেশি যাচাইকৃত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই দাবির জবাবে ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে। এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আপনার কি শত্রু আছে? তার মানে আপনি একসময় কোনো কিছুর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা আর্জেন্টিনার পক্ষে দাঁড়াই।”
আরেক পোস্টে তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনার সমস্যা হলো আমরা সবার চেয়ে আলাদা। আমাদের উপেক্ষা করা যায় না, মানুষ আমাদের দেখে ঈর্ষা করে এবং আমরা প্রায় সব কিছুতেই দক্ষ।”
এদিকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাইনালের ফল মেনে নিয়ে বলেন, স্পেনই শিরোপার যোগ্য দল ছিল। তিনি জানান, পরাজয় কষ্টদায়ক হলেও ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করার কোনো কারণ দেখেন না।
পারেদেস বলেন, “ফাইনালে স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে এবং তারাই বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্য ছিল। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া নানা তত্ত্বে আমরা মনোযোগ দিই না।”
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর পারেদেসের সঙ্গে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির বাগবিতণ্ডাও আলোচনায় আসে। তবে আর্জেন্টিনা শিবিরের দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই।
পারেদেস আরও বলেন, গত কয়েক বছরে দুটি কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়সহ দলের অর্জনগুলো অসাধারণ। সময়ের সঙ্গে এই সাফল্যের প্রকৃত মূল্য আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।