
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া আবারও আলোচনায় এসেছে একটি আলোচিত অপহরণ মামলার রায়ের মাধ্যমে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যে ৪৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আবদুলরাজাক উমর, ইউনুসা মুসা এবং শামসু আদামু সানি। তারা রাজধানী আবুজা-এর একটি উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে অপরাধের কিছু অংশ স্বীকার করেন। বিশেষ করে, তারা অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে তথ্য গোপন করার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তে জানা যায়, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারাম-এর একটি সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তারা সরাসরি অপহরণ পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রধান আসামি আবদুলরাজাক উমর স্বীকার করেন, তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দিতেন এবং অবৈধ খনন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
এই অপহরণকাণ্ডটি ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে, যখন ওরিইরে জেলার তিনটি স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অপহরণ করা হয়। পরে মে মাসেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৪৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
অপহৃতদের মধ্যে ওরিইরের কমিউনিটি গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক র্যাচেল ফোলাওয়ে আলামু জানান, তারা ৫৬ দিন জঙ্গলের মধ্যে বন্দি ছিলেন। তাদের প্রায়ই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হতো এবং কঠিন পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা হতো। তিনি আরও জানান, অপহরণকারীরা কয়েকজন শিক্ষককে হত্যা করে, যা পুরো ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। অভিভাবক, শিক্ষক ও অধিকারকর্মীরা স্কুলগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অপহরণ কৌশল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের নিরাপত্তা ইস্যু এখন নাইজেরিয়ার অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।