
সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, বিদেশে সরকারি দায়িত্ব পালন এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়ার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে সেনা সদর দপ্তরে এই সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যয় কমবে এবং কার্যকর যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোজাম্মেল এবং ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের পক্ষে বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার দেসালেগন মোল্লা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাংলাদেশে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্ট রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম ভাড়ায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট নেই, সেসব গন্তব্যে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কোর্স কিংবা অন্যান্য সরকারি কাজে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন সেনা সদস্যরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ব্যবস্থা সেনাবাহিনীর ভ্রমণ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি এয়ারলাইন্সের উন্নত সেবা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এতে বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, শান্তিরক্ষা মিশন ও অন্যান্য সরকারি দায়িত্ব পালনে সেনা সদস্যদের যাতায়াত আরও গতিশীল হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই সমঝোতা স্মারক বিদেশে দায়িত্ব পালন ও মিশন মোতায়েনের সময় সেনা সদস্যদের চলাচল সহজ করবে। একই সঙ্গে এটি সেনাবাহিনীর পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সক্ষমতা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই সহযোগিতাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।