
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই সেনারা দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছে দেশ দুটি। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও নিতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘ইচ্ছুকদের জোট’ শীর্ষ সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ৩৫টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে।
সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। ঘোষণাপত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কাঠামো ও দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ফ্রান্স ‘কয়েক হাজার’ সেনা ইউক্রেনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তাঁর ভাষায়, এই সেনা মোতায়েন ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতে নতুন সংঘাত ঠেকাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করবে।
এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইউরোপে নিযুক্ত মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ।
রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা প্রটোকলের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইউক্রেনের জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তারা জানুক—যুদ্ধ শেষ হলে তা যেন স্থায়ীভাবে শেষ হয়।”
জ্যারেড কুশনার প্যারিসের এই বৈঠককে ‘একটি বড় মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, ইউক্রেন যদি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তবে দেশটির জনগণকে নিশ্চিত হতে হবে যে চুক্তির পর তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে না। এজন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গ্যারান্টি অপরিহার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণা ইউক্রেন সংকটে নতুন একটি ধাপের সূচনা করছে। যুদ্ধবিরতির পর সেনা মোতায়েনের স্পষ্ট অঙ্গীকার ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।