
পরিবেশ দূষণ ও অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় যৌথ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে পাঁচটি ইটভাটাকে মোট ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
র্যাব-১৩ জানিয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অতিরিক্ত সালফার ব্যবহার, অ্যাশ ও মারকারি সমৃদ্ধ কয়লা পোড়ানো এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অবৈধ ইটভাটা ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে গত ৭ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যৌথ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অংশ নেয় র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প, গাইবান্ধা জেলা পুলিশ, সাদুল্লাপুর ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা।
মোবাইল কোর্টে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনটির ৫(১) ও ৮(১) ধারার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(২) ও ১৮(২) ধারায় এসব জরিমানা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলো হলো—
মেসার্স আনোয়ারা ব্রিক্স: মালিক মো. আল মামুনকে ৫ লাখ টাকা
মেসার্স সরকার ব্রিক্স: মালিক মো. আশরাফুল হাবিবকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা
মেসার্স এসআই ব্রিক্স: মালিক শরিফুল আলম উজ্জলকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা
এ জেড বি ব্রিক্স: মালিক আজিজকে ৩ লাখ টাকা
এমএবি ব্রিক্স: মালিক আনোয়ার হোসেন সরকারকে ৫ লাখ টাকা
সব মিলিয়ে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩ লাখ টাকা।
র্যাব-১৩ জানিয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বার্থ রক্ষায় তারা সব ধরনের সামাজিক ও পরিবেশবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম বন্ধে ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
স্টাফ রিপোর্টার
আঃমাবুদ