
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। দেশটির দাবি, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে আসছে। একই সঙ্গে ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বুধবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের সুশাসন: শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে এ মন্তব্য করেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ।
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে পাকিস্তান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, মূল আলোচনার বিষয় থেকে সরে গিয়ে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে। এ কারণে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দিতে হয়েছে।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পর্বতনেনি হরিশ বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতে দেশের অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন অংশ। এ বাস্তবতা অস্বীকার করে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হলো পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা সেই ভূখণ্ড, যেটিকে ভারত নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। তাঁর মতে, ওই অঞ্চল খালি করাই হওয়া উচিত মূল আলোচ্য বিষয়।
বক্তব্যে সিন্ধু পানি চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সদিচ্ছা ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। একই সময়ে যদি একটি দেশ সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা ব্যবহার করে, তাহলে সহযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তুলতে হলে পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ দিকে পাকিস্তানকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান পর্বতনেনি হরিশ। তাঁর ভাষ্য, ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরিবর্তে পাকিস্তান যদি নিজেদের জনগণের সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেয়, তাহলে সেটিই দেশটির জন্য বেশি ইতিবাচক হবে।