
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম অবস্থানে উঠে এসেছে। তবে তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, যার নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা বিশ্বের ১৯২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই বা সহজ ভিসা সুবিধায় ভ্রমণের সুযোগ পান। এই সূচক প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স, যারা বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবছর এই র্যাংকিং প্রকাশ করে।
নতুন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ৩৫টি দেশে ভিসামুক্ত, ভিসা অন অ্যারাইভাল বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ই-ভিসা সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।
বাংলাদেশের নিচে রয়েছে নেপাল (৩৪টি গন্তব্য), সোমালিয়া (৩২), ইয়েমেন (৩০), পাকিস্তান (২৯), ইরাক (২৮) এবং সিরিয়া (২৫)। তালিকার একেবারে শেষে রয়েছে আফগানিস্তান, যার পাসপোর্টে মাত্র ২২টি দেশে সহজ ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।
২০০৬ সালে হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স প্রথম প্রকাশিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল। তবে দুই দশকে বৈশ্বিক ভিসা নীতির পরিবর্তনের ফলে এখন দেশটির অবস্থান নেমে এসেছে দশমে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ১৮০টি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পান এবং একই অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড।
২০০৬ সালে যখন হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স প্রথম প্রকাশিত হয়, তখন বিশ্বে একটি পাসপোর্টের মাধ্যমে গড়ে ৫৮টি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ ছিল। দুই দশক পর সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১০৮টি দেশে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রতিফলন।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের চেয়ারম্যান ক্রিশ্চিয়ান এইচ. কেলিন বলেন, পাসপোর্টের শক্তি একটি দেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব, আন্তর্জাতিক আস্থা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তার মতে, যেসব দেশের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রগুলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী, সেসব দেশের নাগরিকরাই বেশি ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে প্রায় সব দেশের পাসপোর্টই নতুন নতুন ভিসামুক্ত গন্তব্য পেয়েছে। তবে বলিভিয়া ব্যতিক্রম; দেশটি এই সময়ে ছয়টি ভিসামুক্ত গন্তব্য হারিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।