
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে বর্তমানে এমন ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা বাস্তব ফুটেজের সঙ্গে পার্থক্য করা সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অনেক ভিডিওই পরে এআই দিয়ে তৈরি বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ফলে কোনো ভিডিও দেখেই তা সত্য বলে ধরে নেওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হানি ফারিদসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, কিছু সাধারণ লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই এআই-নির্মিত ভিডিও শনাক্ত করা সম্ভব।
বর্তমানে অধিকাংশ এআই ভিডিও তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। সাধারণত ৬, ৮ বা ১০ সেকেন্ডের ক্লিপ বেশি দেখা যায়। কারণ দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করতে বেশি কম্পিউটিং শক্তি ও খরচ লাগে, পাশাপাশি ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
অনেক নির্মাতা একাধিক ছোট ক্লিপ একসঙ্গে জোড়া দিয়ে দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করেন। তাই ভিডিওতে নির্দিষ্ট সময় পরপর অস্বাভাবিক কাট বা দৃশ্য পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর দিন।
অনেক এআই ভিডিও ইচ্ছাকৃতভাবে কম রেজোলিউশনে প্রকাশ করা হয়, যাতে ত্রুটিগুলো সহজে চোখে না পড়ে। ভিডিওটি যদি অস্বাভাবিকভাবে ঝাপসা, অতিরিক্ত পিক্সেলযুক্ত বা পুরোনো মোবাইল কিংবা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের মতো মনে হয়, তাহলে সেটি আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত।
কম মানের ভিডিওতে এআই-এর তৈরি সূক্ষ্ম ভুলগুলো সহজে আড়াল হয়ে যায়, যা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানের উন্নত এআই মডেলগুলো আগের মতো বড় ধরনের ভুল কম করলেও ছোটখাটো অসঙ্গতি এখনো রয়ে গেছে। ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে দেখলে কিছু বিষয় অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। যেমন—
এ ধরনের সূক্ষ্ম অসঙ্গতিগুলো এআই-নির্মিত ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে। তখন কেবল ভিডিও দেখে সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
তাই কোনো ভিডিও ভাইরাল হলেই তা বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে এর উৎস, প্রকাশকারী অ্যাকাউন্ট, প্রকাশের সময়, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনার তথ্য রয়েছে কি না এবং প্রয়োজন হলে ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার যাচাই দেখে নেওয়া উচিত। ডিজিটাল যুগে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসই ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।