যুক্তরাজ্যে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ শ্রমবাজার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওএনএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেকারত্বের হার ০.২ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল সময়কালের তুলনায় এই হার অপরিবর্তিত রয়েছে, যা শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চাপেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসের শেষে যুক্তরাজ্যে বেকারের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা ৮১ হাজার বেশি, যা কর্মসংস্থান পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত বহন করছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময়ে বেতনভুক্ত (পে-রোলভুক্ত) কর্মীর সংখ্যা ৮৫ হাজার বা ০.৩ শতাংশ কমেছে। তবে এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে এ সংখ্যায় সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই সময়ে পে-রোলভুক্ত কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার বেড়েছে, যা সামগ্রিকভাবে শ্রমবাজারে সীমিত স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
আয়ের ক্ষেত্রে ওএনএস জানিয়েছে, বোনাস বাদে কর্মীদের গড় বার্ষিক আয় ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে বোনাসসহ মোট গড় আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৩ শতাংশ। যদিও মজুরি বাড়ছে, তবুও কর্মসংস্থানের ধীরগতি এবং বেকারত্বের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ সুদের হার, ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে পড়ছে। আগামী মাসগুলোতে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
