
ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি অবসরের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশেষে স্পষ্ট অবস্থান জানালেন। দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের কৌতূহল— মাঠের আলো ঝলমলে জীবন শেষ হলে নিজেকে কোন ভূমিকায় দেখতে চান এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম Luzu-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে।
সাক্ষাৎকারে মেসি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, অবসরের পর তিনি কোচ হওয়ার পথে হাঁটতে চান না। এমনকি দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ভাবনাও তার নেই। বরং ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভূমিকায়— একজন ক্লাব মালিক হিসেবে।
মেসির ভাষায়,
“আমি নিচ থেকে শুরু করে নিজের একটি ক্লাব গড়তে চাই। সেখানে তরুণ খেলোয়াড়রা সুযোগ পাবে, ধীরে ধীরে নিজেদের গড়ে তুলবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্লাবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে যাওয়াই আমার স্বপ্ন।”
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ডাগআউটে দাঁড়িয়ে নির্দেশনা দেওয়ার চেয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে থাকতে আগ্রহী তিনি। ফুটবলকে ভেতর থেকে গড়ে তোলার চিন্তাই তাকে বেশি টানে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেসি ইতোমধ্যেই একটি ক্লাব প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। উরুগুয়েতে সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ক্লাব উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন তিনি। অনেকের মতে, এটি মেসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই বাস্তব প্রতিফলন।
বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী মেসি খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে থাকলেও তার মনোযোগ এখনও মাঠেই। লক্ষ্য একটাই— ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে নামা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও একটি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে মেসি শুধু ফুটবল নয়, ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, বার্সেলোনায় খেলার সময় এক পর্যায়ে মানসিক চাপে ভুগে থেরাপির সাহায্য নিয়েছিলেন।
“এখন আর থেরাপি করি না। তখন করেছিলাম। আগে সব কিছু নিজের ভেতর জমিয়ে রাখতাম, এখন অনেক বদলেছি,”— বলেন মেসি।
তিনি আরও জানান, একা সময় কাটাতে ভালোবাসেন, নিরিবিলি মুহূর্ত উপভোগ করেন। তবে সন্তানদের উপস্থিতিতে ঘরের কোলাহলও তার কাছে আনন্দের।
সব মিলিয়ে, লিওনেল মেসির বক্তব্যে স্পষ্ট— মাঠ ছাড়লেও ফুটবল ছাড়ছেন না তিনি। নায়ক হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের নির্মাতা হয়ে খেলাটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।