
দেশের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এডিআর পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিচারকের তুলনায় বিচারাধীন মামলার সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। প্রায় ৪৫ লাখ মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই চাপ কমাতে মামলার বিকল্প নিষ্পত্তির পথকে আরও কার্যকর করতে হবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন আইনে এডিআর কার্যক্রমের মাধ্যমে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা কমানো সম্ভব হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই ধারা অব্যাহত থাকলে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, যেসব মামলায় আপস বা সমঝোতার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আদালতের বাইরে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রার্থীরা যেমন দ্রুত সেবা পাবেন, তেমনি আদালতের ওপর চাপও কমবে।
তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা কমে প্রায় ২০ লাখে নেমে আসতে পারে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় এবং টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মামলা জট কমার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে আদালতের ওপর চাপ কমে বিচার প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।