
ভারতের সিকিম রাজ্যের নামচি জেলায় নির্মাণাধীন একটি টানেলে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণের পর ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর টানেলের ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে জাতীয় জলবিদ্যুৎ শক্তি করপোরেশনের (এনএইচপিসি) তিস্তা ষষ্ঠ ধাপ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে। আটকে পড়াদের মধ্যে এনএইচপিসির কর্মীরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, মাটির নিচের শিলাস্তর থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জমে ছিল। পরে সেই গ্যাস বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলাকালে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই সুড়ঙ্গের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা বহু শ্রমিক আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন শ্রমিক দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকে সুড়ঙ্গের গভীরে আটকা পড়ে যান। সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
তবে উদ্ধারকাজের শুরু থেকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে উদ্ধারকারী দলকে। টানেলের ভেতরে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ভূমিধসের কারণে সুড়ঙ্গের ভেতরে দৃশ্যমানতা কমে যায় এবং সরু পথ উদ্ধার তৎপরতাকে আরও জটিল করে তোলে।
বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), নামচি জেলা প্রশাসন, সিকিম পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং এনএইচপিসিসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে আটকে পড়া শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।