
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও টানা দশম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক, বন্দর আব্বাস, বন্দর লেঙ্গেহ, কেশম দ্বীপ, চাবাহার, কোনারাক ও শিরাজে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমৃদ্ধ বুশেহর এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের হাইমার্স (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানিয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সম্প্রতি তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে এর মূল্য দিতে হবে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ২০ গুণ বেশি শক্তি প্রয়োগ করবে। তিনি জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বর্তমানে নিরাপত্তা ও সামরিক পদক্ষেপই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের পর দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগেছে এবং নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল, গ্যাস ও রাসায়নিক সার পরিবহন বন্ধ রাখারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
এ ছাড়া বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান প্রতিরক্ষা রাডার এবং আল-রিফা এলাকায় একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি। কুয়েতে পৃথক হামলায় দীর্ঘপাল্লার রাডার, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট গ্রহণ ব্যবস্থা এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।
তবে এসব হামলার দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।