
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনী জানিয়েছে, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ এবং উন্নত অপারেশনাল সক্ষমতার মাধ্যমে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতির অবস্থানে রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর উদ্ধৃতিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত সতর্কতা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই সব ধরনের সামরিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় শুধু আধুনিক অস্ত্রই নয়, প্রশিক্ষিত জনবল, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আইআরজিসির দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই তারা বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
আইআরজিসির স্থলবাহিনীর উপ-কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুহোল্লাহ নুরি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এমন পর্যায়ের প্রস্তুতিতে রয়েছে যে, শত্রুপক্ষের যেকোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইআরজিসির এই বক্তব্যকে তেহরানের সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত অবস্থানের বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে আইআরজিসির দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটনও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই অবস্থান অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।