
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে আটক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। দুবাই পুলিশ নীতিগতভাবে তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণে সম্মতি দিলেও, হস্তান্তরের আগে চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ দিন আগে চিঠিটি বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথভাবে এর জবাব প্রস্তুত করছে। দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্রের সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
জানা গেছে, দুবাই পুলিশ চারটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ কোন আইনের আওতায় এবং কী প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে চায়, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় আইনি ভিত্তি কী, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক বৈধতা কতটুকু এবং পুরো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন সমন্বয় করছে।
কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রশ্ন আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাখ্যা ও নথিপত্র দ্রুত পাঠানো হলে পরবর্তী ধাপে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে। তারা মনে করছেন, দুবাই পুলিশের এই চিঠি ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে জানান, ১২ জুন ইউএইর ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলে বেনজীর আহমেদের আটকের তথ্য জানায়। এরপর বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত চেয়ে আবেদন করে। দুদক প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠায়।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণও চলছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ব্যবসায়িক ও আর্থিক বিরোধের জেরে তার কয়েকজন সাবেক সহযোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুবাইয়ের একটি শপিং মল থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও দুবাই পুলিশের বিবেচনায় ছিল বলে জানা গেছে।