
স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালের পরাজয় ঘিরে দেশটিতে মর্মান্তিক দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী বুয়েনস আইরেসে পৃথক ঘটনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৭ ও ৮৮ বছর বয়সী দুই সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৭২ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি গুরুতর হৃদরোগজনিত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
দেশটির জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা স্যাম (SAME) জানিয়েছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায়। ৬৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির জন্য সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে জরুরি কল আসে। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই উপস্থিত লোকজন তাকে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিচ্ছিলেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয় ঘটনায় ৮৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে শ্বাসকষ্ট ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত জরুরি সহায়তা চান। সিপিআর দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া ৭২ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
ফাইনাল ঘিরে বুয়েনস আইরেসে শুধু হৃদরোগই নয়, আরও বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে। উদযাপনের সময় চার মিটার উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে ৪৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বোতলের আঘাত, মারামারি এবং পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার মতো একাধিক ঘটনারও চিকিৎসা দেওয়া হয়।
একজন নারী প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পাশাপাশি হাঁপানি, স্নায়বিক জটিলতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও চাপপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ চলাকালে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য হৃদ্রোগজনিত ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বুকে ব্যথা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (অ্যারিদমিয়া) এবং অন্যান্য হৃদরোগসংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
উল্লেখ্য, এর এক সপ্তাহ আগেও আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে হৃদরোগে একজন সমর্থকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেদিনও হৃদরোগজনিত একাধিক জরুরি ঘটনার তথ্য দিয়েছিল দেশটির জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা।