
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী জর্জটাউন থেকে পোর্ট কাইতুমার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এমভি বারিমা নামের ফেরিটিতে মোট ১৩৩ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১৬ জন যাত্রী এবং ১৭ জন নাবিক (ক্রু) ছিলেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৫ জন শিশু রয়েছে। তবে এখনও অনেক যাত্রী নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ১ মিনিটে জরুরি সংকেত পাওয়ার পরপরই সরকারি উদ্ধারকারী সংস্থা, কোস্ট গার্ড এবং বেসরকারি নৌযান নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রোববারও সমুদ্রপথে নিখোঁজদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
গায়ানার জনপথমন্ত্রী হুয়ান এডগিল বলেছেন, ফেরিতে থাকা প্রত্যেক আরোহীর সন্ধান পাওয়ার ব্যাপারে সরকার আশাবাদী। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ফেরিটির ক্যাপ্টেনও রয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর ক্যাপ্টেন আবার উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে ঘটনাস্থলে ফিরে গেছেন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনার সময় ফেরিটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল না। ৩০০ জনের বেশি যাত্রী বহনের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে মোট ১৩৩ জন আরোহী ছিলেন, যা নির্ধারিত ধারণক্ষমতার অনেক নিচে।
উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর যাত্রীদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তার জন্য বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে সরকার।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ফেরিটি জর্জটাউন থেকে পোর্ট কাইতুমার পথে আয়রন পন্ট এলাকার কাছে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৩৯ সালে নির্মিত ৪০ মিটার দীর্ঘ এমভি বারিমা ফেরিটিতে নিরাপত্তার জন্য ২৫০টি লাইফ জ্যাকেট, দুটি শক্ত কাঠামোর লাইফক্রাফট এবং ছয়টি ফোলানো যায় এমন লাইফক্রাফট ছিল। বহু বছর ধরে এটি গায়ানার অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।