
ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর একটি হলো গোল্ডেন বুট, যা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয়। প্রতি বিশ্বকাপেই এই পুরস্কার ঘিরে থাকে ব্যাপক আগ্রহ। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমান সংখ্যক গোল করেন, তাহলে কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?
ফিফার অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, শুধু গোলের সংখ্যা সমান হলেই গোল্ডেন বুট যৌথভাবে দেওয়া হয় না। বিজয়ী নির্ধারণে নির্দিষ্ট কিছু টাইব্রেকার অনুসরণ করা হয়।
প্রথমে দেখা হয় খেলোয়াড়দের করা মোট গোলের সংখ্যা। সর্বোচ্চ গোলদাতাই স্বাভাবিকভাবে গোল্ডেন বুট জিতে নেন। কিন্তু যদি দুই বা একাধিক ফুটবলারের গোলসংখ্যা সমান হয়, তখন বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্ট।
যে খেলোয়াড় সমান গোল করার পাশাপাশি বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন, তিনিই গোল্ডেন বুট জয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন। অ্যাসিস্টের হিসাব নির্ধারণ করে ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ, যারা প্রতিটি ম্যাচ বিশ্লেষণ করে অফিসিয়াল পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।
যদি গোল এবং অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই সমতা থাকে, তাহলে তৃতীয় ধাপে বিবেচনা করা হয় খেলার মোট সময়। অর্থাৎ, যে খেলোয়াড় কম মিনিট মাঠে থেকে সমান সংখ্যক গোল করেছেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এতে বোঝানো হয়, কম সময় খেলেও যিনি একই সংখ্যক গোল করতে পেরেছেন, তিনি তুলনামূলক বেশি কার্যকর ছিলেন।
এই তিনটি মানদণ্ডেও যদি কোনো পার্থক্য না থাকে, তখনই কেবল গোল্ডেন বুট যৌথভাবে প্রদান করা হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ঘটনা খুবই বিরল। এখন পর্যন্ত মাত্র একবার, ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো এবং বুলগেরিয়ার হ্রিস্টো স্তইচকভ সমান গোল ও অ্যাসিস্ট করায় যৌথভাবে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি। ফাইনালের আগে এমবাপ্পে ১০ গোল করে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন, অন্যদিকে মেসির গোল ৮টি। ফলে ফাইনালে মেসিকে অন্তত দুই গোল করে এমবাপ্পের সমতায় ফিরতে হবে। এরপর দুইজনের অ্যাসিস্ট ও মাঠে কাটানো সময়ের হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বিজয়ী।
গোল্ডেন বুট শুধু একজন সেরা গোলদাতার স্বীকৃতিই নয়, এটি একটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফুটবলারের অসাধারণ পারফরম্যান্সের অন্যতম বড় স্বীকৃতি। তাই ফাইনালের আগে এই পুরস্কারের লড়াইও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে শিরোপা জয়ের মতোই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।