
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীতে নৌভ্রমণ শেষে ফেরার পথে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শেরপুর জেলার বাসিন্দা হাসমতের ছেলে বিপুল (১৮) এবং রংপুর জেলার বাসিন্দা সাজ্জাদ (২৫)। আহতরা হলেন নদী (২৩), রানা (২২), ওয়াহেদ (২০) ও মেহেদী হাসান সুমন (২৫)। তারা সবাই গাজীপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিডি ফুড কোম্পানির কর্মী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের ভাওয়াল এলাকা থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল মির্জাপুরের ঐতিহাসিক মহেড়া জমিদারবাড়ী এলাকায় আনন্দভ্রমণে আসে। দিনব্যাপী ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় তারা ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় করে গাজীপুরে ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে বংশাই নদীর থলপাড়া এলাকায় পৌঁছালে নৌকাটি নদীর ওপর ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসে। এতে মুহূর্তের মধ্যে নৌকায় বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ছয়জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই দুই যুবক গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং আহতদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিপুল ও সাজ্জাদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বংশাই নদীর ওই অংশে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের তার বিপজ্জনকভাবে নিচু অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুতের তার নিরাপদ উচ্চতায় স্থানান্তর এবং নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম আব্দুল হাই জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তবে তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানান, নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।