
কানাডাজুড়ে চলমান ভয়াবহ দাবানলের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি দাবানল জ্বলছে। এসব দাবানল থেকে সৃষ্টি হওয়া ঘন ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ায় বায়ুর মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে একাধিক এলাকায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) অনুযায়ী, মিশিগান অঙ্গরাজ্য এবং মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বায়ুর মান 'বিপজ্জনক' পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের বায়ুর মান বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল। শহরটির দূষণ সূচক ৬০০-এ পৌঁছায়, যা মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার নির্ধারিত বিপজ্জনক সীমারও অনেক ওপরে।
মার্কিন সরকারি তথ্য বলছে, মিনেসোটা, মিশিগান, উত্তর ইলিনয়, উত্তর ওহাইও এবং কানাডার অন্টারিও অঞ্চলে ধোঁয়ার ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। মিনিয়াপোলিস, মিলওয়াকি ও টরন্টো শহরেও বায়ুর মান স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নেমে এসেছে। এছাড়া মিনেসোটা থেকে মেরিল্যান্ড পর্যন্ত অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যে অস্বাস্থ্যকর বায়ুর কারণে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম জানিয়েছে, অধিকাংশ দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে অন্টারিওর পশ্চিমাঞ্চলের বড় বড় দাবানল থেকে উৎপন্ন ধোঁয়ায় থান্ডার বে ও টরন্টো শহরের বায়ুর মানের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।
এদিকে অপেক্ষাকৃত হালকা ধোঁয়া উঁচু বায়ুমণ্ডল দিয়ে গ্রেট লেকস অতিক্রম করে নিউইয়র্ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর ফলে অনেক এলাকায় আকাশ ধোঁয়াটে দেখা যাচ্ছে এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লালচে রঙ ধারণ করছে।
কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানী এমিলি ফিশার বলেন, বর্তমানে ধোঁয়ার বিশাল একটি প্রবাহ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের ঘটনা ও ধোঁয়ার বিস্তার আগের তুলনায় আরও তীব্র হচ্ছে এবং এর প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যেও পড়ছে।
নিউইয়র্কেও ধোঁয়ার কারণে আকাশ কমলা আভা ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং হৃদ্রোগ বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই নগরীর বিভিন্ন লাইব্রেরি, পুলিশ স্টেশন ও ফায়ার স্টেশনে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে এবং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।