
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে ইংল্যান্ডের। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে উপস্থিত সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ও ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক ডেভিড বেকহ্যামের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি কেড়েছে।
এই ম্যাচটি বেকহ্যামের জন্য ছিল এক ভিন্নরকম মানসিক পরীক্ষার। একদিকে তার জন্মভূমি ইংল্যান্ড, অন্যদিকে তার ক্লাব ইন্টার মায়ামির সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা ক্লাবের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নিজের দেশের পক্ষেই সমর্থন জানিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেকহ্যাম লেখেন, ‘আমাদের সবার জন্যই এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি মুহূর্ত। তবে এই স্মৃতিগুলো আমাদের সব সময় অনুপ্রাণিত করবে এবং চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড শুরুতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ম্যাচে লিওনেল মেসি নিজে গোল না করলেও আর্জেন্টিনার দুটি গোলেই অসাধারণ দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মেসির সৃজনশীল পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। গ্যালারিতে বসে থাকা বেকহ্যামকে একদিকে দেশের পরাজয়ের বেদনা, অন্যদিকে নিজের ক্লাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অসাধারণ নৈপুণ্য মেনে নিতে হয়।
২০২৩ সালে বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দিয়ে লিওনেল মেসিকে ইন্টার মায়ামিতে নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। এরপর থেকে মেসির উপস্থিতিতে ক্লাবটির বৈশ্বিক পরিচিতি ও বাণিজ্যিক মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই মেসিই হয়ে উঠলেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাধা। ক্লাব ফুটবলে যার সাফল্যে আনন্দিত হন বেকহ্যাম, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সেই একই খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যই তার দেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি টানল।
ফুটবলের এই বৈপরীত্যই খেলাটিকে আরও আবেগময় করে তোলে। ক্লাবের সাফল্যের নায়ক আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন, আর সেই মুহূর্তই তৈরি করে স্মরণীয় ও হৃদয়স্পর্শী গল্প।