
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় নতুন করে তীব্র হয়েছে সংঘাত। রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর জবাবে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। এ অবস্থায় চলমান সংঘাত বন্ধ করে উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।
ইরান জানিয়েছে, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গত মাসে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের হুমকি কমাতে ছয় ঘণ্টাব্যাপী একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য উৎসাহিত করবে।
তিনি বলেন, সমঝোতা বাস্তবায়ন বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। তবুও পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাতে থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এর ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদের উদ্যোগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত চার দশকের মধ্যে এটিই ছিল প্রথমবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি একই কক্ষে বসে আলোচনা করেন।
পরে জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়। এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অংশ নেন।
পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক সম্মেলনেও ওই সমঝোতা নিয়ে আরও আলোচনা হয়। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেই সমঝোতা এখন গুরুতর চাপে পড়েছে।