
দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), সৌরবিদ্যুৎ এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে স্থানীয়ভাবে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন শুল্ক সুবিধা দিয়েছে সরকার। তবে এসব নীতিগত সুবিধা বাস্তবে কার্যকর হতে ধীরগতি থাকায় শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কাস্টমস প্রসিডিউর কোড (সিপিসি) বরাদ্দে বিলম্বের কারণে উদ্যোক্তারা ঘোষিত শুল্কছাড়ের সুবিধা সময়মতো পাচ্ছেন না। ফলে বন্দরে কাঁচামাল আটকে থাকায় ডেমারেজ, গুদাম ভাড়া এবং ব্যাংক সুদের মতো অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।
শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, সরকার এসআরও (স্ট্যাটিউটরি রেগুলেটরি অর্ডার) জারি করে সুবিধা দিলেও বাস্তবে তা পেতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় সিপিসি না পাওয়ায় উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।
চলতি বছরের ৮ জুন কার্যকর হওয়া এসআরও অনুযায়ী, লিথিয়াম-আয়ন, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে ব্যবহৃত নির্ধারিত কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ কম শুল্কে আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত উৎপাদনকারী হতে হবে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সিপিসি বরাদ্দ পেলেই শুল্ক সুবিধা কার্যকর হয়।
লিও আইসিটি কেবল পিএলসির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল হক বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ শিল্পের জন্য ইতিবাচক হলেও অনুমোদন পাওয়ার পরও যদি মাসের পর মাস সিপিসির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে বিনিয়োগ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিপিসি বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উদ্যোক্তাদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সম্ভাবনাময় এই খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি এবং শুল্ক সুবিধা কার্যকর করা না গেলে সরকারের নীতিগত প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে বিলম্ব করেন। সব কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পরই সিপিসি ইস্যু করা হয়। তাই নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের দেওয়া বাজেট সুবিধার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা গেলে দেশে লিথিয়াম ব্যাটারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ইভি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও নতুন গতি আসবে।