
ভারতের রাজস্থান রাজ্যের কোটা শহরে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া পাঁচ নারী দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করানোর পরও শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তারা আর এই চিকিৎসা নিতে চান না। সরকার যদি কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক।
এই দাবিতে পাঁচ নারীর পরিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। সেখানে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা অথবা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো লিখিত আশ্বাস পাননি বলে অভিযোগ পরিবারের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধান্নি সুমন, রাগিনি মীনা, সুশীলা মাহাওয়ার, পিঙ্কি আইরওয়াল এবং আরতি চৌবদার গত মে মাসের শুরুতে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের কিডনি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এবং প্রত্যেকে এখন পর্যন্ত ৩২ বার ডায়ালাইসিস সম্পন্ন করেছেন। গত ৭০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিটি ডায়ালাইসিসের পর তাদের তীব্র শারীরিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। ধান্নি সুমনের স্বামী মোহন লাল জানান, ডায়ালাইসিস শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার স্ত্রীর বমি, শরীর কাঁপা এবং জ্বর শুরু হয়। একই ধরনের ভোগান্তি প্রতিবারই সহ্য করতে হচ্ছে।
রাগিনি মীনা বলেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাদের অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। বুধবার পিঙ্কি আইরওয়াল ও আরতি চৌবদার নির্ধারিত ডায়ালাইসিস করাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ সময় তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগও তোলেন। এছাড়া রাগিনির স্বামী লোকেশ মীনা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কিছু কর্মী রোগীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নিলেশ জৈন জানান, পাঁচ নারীর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তিনি বলেন, ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিলে রোগীদের জীবনের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হবে। চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে প্রায় তিন মাস ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে, একই সময়ে কোটার নিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জে কে লোন হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের জটিলতায় আরও পাঁচ নারীর মৃত্যুর ঘটনাও রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে মাতৃস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।