
রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।
আদালতে আসামির উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নাঈমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি সাংবাদিকদের জানান, এ নিয়ে আনোয়ার হোসেন নাঈমকে মোট ১১টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একই ব্যক্তিকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ (Shown Arrest) দেখিয়ে জামিনের সাংবিধানিক অধিকার কার্যত অর্থহীন করে দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, একটি মামলায় জামিন পেলেই অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখার প্রবণতা ন্যায়বিচার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে নাঈম কারাগারে রয়েছেন এবং এ ধরনের ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়া পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আনোয়ার হোসেন নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধানমণ্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানির জন্য ১৫ জুলাই দিন ধার্য ছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ধানমণ্ডি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া মো. সজিব ইসলাম আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার সময় তিনি আহত হন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ধানমণ্ডি মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।