
মানুষ মানসিক শান্তি বজায় রাখতে নানা ধরনের চেষ্টা করে। কেউ জীবনযাপনে পরিবর্তন আনে, কেউ নতুন অভ্যাস গড়ে তোলে। তবে অনেক সময় কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসই অজান্তে মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং মানসিক প্রশান্তি কমিয়ে দেয়।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এমন কয়েকটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আধ্যাত্মিক দর্শনের বিভিন্ন ধারায় বলা হয়, মানুষের অনেক কষ্টের মূলেই রয়েছে অতিরিক্ত আসক্তি। লক্ষ্য, সম্পর্ক বা স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া অবশ্যই স্বাভাবিক; তবে কখন কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত আসক্তি মানসিক শান্তি নষ্ট করছে, তা বুঝতে পারাও জরুরি।
নির্দিষ্ট ফলাফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি
পরিকল্পনা করা এবং ভালো ফলের আশা করা স্বাভাবিক। কিন্তু নিজের সুখ যদি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, তাহলে প্রত্যাশা পূরণ না হলে হতাশা আরও বেড়ে যেতে পারে। জীবনের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনও অনেক সময় নতুন সুযোগ ও অভিজ্ঞতার দ্বার খুলে দেয়।
অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকা
বারবার অতীতের ভুল, আফসোস বা বেদনাদায়ক স্মৃতি নিয়ে ভাবতে থাকলে বর্তমানকে উপভোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতীতকে ভুলে যাওয়া নয়, বরং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই মানসিক সুস্থতার জন্য বেশি কার্যকর।
অন্যের মতামতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
অন্যের স্বীকৃতি পাওয়ার ইচ্ছা স্বাভাবিক। তবে আত্মসম্মান যদি পুরোপুরি অন্যের প্রশংসা বা গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অন্যের মূল্যায়নের চেয়ে নিজের মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত আসক্তি
নিজেকে সবসময় নিখুঁত বা সবার সেরা ভাবার প্রবণতা অনেক সময় সামান্য ভুল বা ব্যর্থতাও মেনে নিতে বাধা সৃষ্টি করে। এতে হতাশা ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। ভুল থেকে শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা
জীবনের সব পরিস্থিতি বা মানুষকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাওয়ার প্রবণতা মানসিক ক্লান্তি বাড়াতে পারে। বাস্তবতা হলো, অনেক বিষয়ই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই যা পরিবর্তন করা সম্ভব, সেখানে মনোযোগ দেওয়া এবং বাকিটুকু গ্রহণ করার মানসিকতা তুলনামূলক বেশি স্বস্তি এনে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তাই সময়ের সঙ্গে নিজের চিন্তাভাবনা ও অভ্যাসেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে নিজের আচরণ ও অভ্যাস নিয়মিত মূল্যায়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।