
ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত গোলগুলোর একটি হলো ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা সেই গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে।
প্রশ্নটি এখনও অনেকের মনে ঘুরপাক খায়—স্পষ্ট হ্যান্ডবল হওয়া সত্ত্বেও কেন গোলটি বাতিল করা হয়নি?
এর মূল কারণ ছিল, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারি আলী বিন নাসের এবং সহকারী রেফারি বোগদান দোচেভ—দুজনের কেউই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দেখতে পারেননি। ফলে তারা গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচটি ছিল কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর দুই দেশের রাজনৈতিক ও আবেগঘন সম্পর্কের কারণেও এটি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্টিভ হজের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেনাল্টি এলাকায় উঠে যায়। গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের জন্য লাফিয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা। উচ্চতায় পিছিয়ে থাকায় তিনি বাঁ হাত ব্যবহার করে বল জালে পাঠিয়ে দেন।
ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে হ্যান্ডবলের অভিযোগে প্রতিবাদ জানান। কিন্তু রেফারি গোলের বাঁশি বাজান এবং গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন। পরে ম্যারাডোনা নিজেই এই গোলের নাম দেন ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত), যা ফুটবল ইতিহাসে একটি কিংবদন্তি বাক্য হয়ে আছে।
মজার বিষয় হলো, বিতর্কিত গোলের মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা এমন একটি গোল করেন, যা ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে করা সেই গোলটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
ম্যাচে শেষদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকার একটি গোল শোধ করলেও আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। পরে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে পশ্চিম জার্মানিকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
বহু বছর পর রেফারি আলী বিন নাসের স্বীকার করেন, ঘটনাটি তার দৃষ্টিসীমার বাইরে ছিল। সে সময় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তি না থাকায় মাঠের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। আধুনিক ফুটবলে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে VAR-এর মাধ্যমে গোলটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।