
বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের দখলে। ম্যাচ শেষে ফরাসি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের হতাশা যেমন ছিল স্পষ্ট, তেমনি স্পেন শিবিরে ছিল উৎসবের আমেজ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে মিকেল ওইয়ারজাবাল গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। নির্ধারিত সময় শেষে ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে স্পেন ফাইনালের টিকিট কাটে।
বিশ্বকাপের আগে অনেক বিশ্লেষক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসে ফ্রান্সকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে ধরা হলেও মাঠের খেলায় সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তারা। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের আক্রমণভাগ কার্যকর হতে পারেনি। ফরাসিরা উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগও খুব কম তৈরি করতে সক্ষম হয়।
এই জয়ে স্পেন ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই আসরেই একমাত্রবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল স্প্যানিশরা। এবারও সেই সাফল্য পুনরাবৃত্তির সুযোগ তাদের সামনে।
আগামী রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ীর সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে লা রোজা।
অন্যদিকে, এই ম্যাচ জিততে পারলে ফ্রান্স জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার বিরল কীর্তি গড়তে পারত। তবে স্পেনের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
এদিকে এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়ে ইতালির বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছে। এর আগে ইতালি ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। এখন এই রেকর্ডের যৌথ মালিক স্পেন ও ইতালি।