
ইরানের হরমোজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেনাবাহিনীর এক রেঞ্জার সদস্যের পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় ইরানের সেনাবাহিনীর রেঞ্জার হাসানজাদেহ বাড়ির বাইরে দায়িত্বে ছিলেন। তবে হামলায় তার দুই ছেলে এবং এক পুত্রবধূ নিহত হন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শহরটিতে ইরানের নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি থাকায় ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের কারণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস এবং উপকূলীয় শহর কোনারাক এলাকায়ও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, লারাক দ্বীপের কাছে চারটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। একই সময়ে কোনারাক এলাকায় চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়। এছাড়া এলাকাটির আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব বিস্ফোরণের প্রকৃত উৎস বা কারণ সম্পর্কে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।