
বাংলাদেশে তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধন না করা হলে ভবিষ্যতে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হলরুমে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের ভূমিকা: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আব্দুল আউয়াল রিজভী। স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) অধ্যাপক ডা. ইউনুছুর রহমান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে প্রায় পৌনে চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সরাসরি তামাক ব্যবহার করেন। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্র, পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে প্রায় তিন কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন।
অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, তামাকজাত দ্রব্যের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগ, ক্যানসার, বক্ষব্যাধিসহ নানা প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সময়োপযোগীভাবে সংশোধন করা না হলে এসব অকাল মৃত্যু রোধ করা কঠিন হবে।
সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহা. শেখ শহীদ উল্লাহ বলেন, বিএমএ চিকিৎসকদের সংগঠন হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বিএমএ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। রোগীদের সচেতন করা ও তামাক ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসক সমাজ কীভাবে নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখতে পারে—ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, তামাক মানবদেহের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চিকিৎসা কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই এই বাস্তবতা প্রতিনিয়ত স্পষ্ট হচ্ছে। সে কারণেই তরুণ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ত করে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)-বাংলাদেশের লিড পলিসি এডভাইজার মো. মুস্তাফিজুর রহমান, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ, প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশন, তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।