
ইরানের অন্যতম সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যেই দেওয়া এই বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ‘হিউ হিউইট শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক তৎপরতার ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে পিক্যাক্স মাউন্টেন লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তার ভাষায়, “আমরা পিক্যাক্স মাউন্টেন নিশ্চিহ্ন করে দেব। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির যেকোনো পারমাণবিক অগ্রগতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে কঠোর হামলা চালানো হবে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কোনোভাবেই এগিয়ে যেতে দেবে না।
পিক্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের নিকটে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এই সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সকে ইরানের অন্যতম নিরাপদ পারমাণবিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থাপনাটি এতটাই গভীরে নির্মিত যে প্রচলিত শক্তিশালী বাংকার-বাস্টার বোমা দিয়েও এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই এটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আলোচনায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনার পর দুই দেশের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পারস্য উপসাগরে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় অবরোধ জারি করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পিক্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্য উপসাগরের কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।