
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের সিআউ দ্বীপে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (BNPB) বরাতে কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বন্যায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, টানা ভারী বর্ষণের ফলে সোমবার উত্তর সুলাওয়েসির এই ছোট দ্বীপে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে উপচে পড়ে। এতে চারটি শহর আকস্মিকভাবে প্লাবিত হয়। প্রবল স্রোতে গাছ উপড়ে যায়, বড় বড় পাথর স্থানচ্যুত হয় এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বন্যার কারণে প্রায় ৭০০ গ্রামবাসী তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বহু বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজ তিনজনের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গম ও কাদাময় পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার তৎপরতায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
ইন্দোনেশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধস নতুন কিছু নয়। তবে এবারের দুর্যোগ তুলনামূলকভাবে বেশি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দেশটিতে ক্রমেই বাড়ছে।
গত বছরের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সুমাত্রা, জাভা ও সুলাওয়েসি দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় চলমান এই বন্যা আবারও মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে, যেখানে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।