
সুদানের উত্তর কর্দোফান রাজ্যের এল-ওবাইদ শহরে ড্রোন হামলায় সাত শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার সংঘটিত এ হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় এক চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত উত্তর কর্দোফানের কেন্দ্রস্থলে একটি আবাসিক বাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর চাপের মুখে রয়েছে। কয়েক মাস ধরেই শহরটি ঘিরে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই বাহিনী।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সরকারি সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কর্দোফান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সহিংসতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে এল-ওবাইদ শহরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রাজধানী খার্তুমকে পশ্চিম দারফুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরে সেনাবাহিনী তাদের শেষ বড় অবস্থান হারানোর পর এলাকা জুড়ে আরএসএফের প্রভাব আরও বেড়েছে। দারফুরে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পর বাহিনীটি কর্দোফান অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এবং সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত একাধিক শহরের চারপাশে অবরোধ জোরদার করছে।
এর আগে গত রোববার এল-ওবাইদে আরেকটি ড্রোন হামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সে ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে।
এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট এল-ওবাইদের দক্ষিণে কয়েকটি শহর পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে। তবে এসব এলাকায় এখনো সংঘর্ষ চলছে বলে জানা গেছে।
চলমান যুদ্ধে সুদানজুড়ে মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এক কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বা প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে লাখ লাখ মানুষ তীব্র দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে।
এই সংকটকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সুদানের চলমান সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।