
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীসহ কক্সবাজার, বান্দরবান এবং রাঙামাটির বন্যাকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা নিয়ে পৌঁছেছে ফেনীর শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গত তিন দিন ধরে এসব সংগঠনের সদস্যরা দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনেও আরও কয়েকটি সংগঠন ত্রাণ নিয়ে দুর্গত এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। এতে বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজ উদ্যোগে ত্রাণ সংগ্রহ করে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, টিম আবু তালেব, ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস, ছাগলনাইয়া ব্লাড ডোনার্স ক্লাব, পরশুরাম ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাব, রাহবার, তারুণ্যের বন্ধন, পরিবর্তন, এফবিডিএ, গ্রিন ফোকাস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, লাইফ ফর হিউম্যান ফেনী, মধুয়াই ফাউন্ডেশন, একতা সামাজিক সংগঠন, মানব সেবা সংস্থা, ফেনী ওয়েলফেয়ার ব্লাড ফাইটার্সসহ আরও অনেক সংগঠন।
এদিকে বন্যার্তদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহেও নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ফেনীর পুরাতন জেল রোডে এলইডি স্ক্রিনে ফিফা বিশ্বকাপের খেলা প্রদর্শনের সময় দর্শকদের কাছ থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করা হয়।
এ ছাড়া সোমবার ‘আমরা যুবকরা চাই পরিবর্তন’, ‘সচেতন বাংলাদেশ’ এবং ‘টুগেদার ফর চেঞ্জ’সহ আরও কয়েকটি সংগঠন প্রায় দুই শতাধিক ত্রাণ প্যাকেট নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক নিশাদ আদনান জানান, তাদের স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের অধীনে থাকা ৩৫টি সংগঠন ইতোমধ্যে ত্রাণ নিয়ে দুর্গত এলাকায় গেছে। পাশাপাশি আরও অনেক সংগঠন আলাদাভাবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে শতাধিক সংগঠন বন্যার্তদের সহায়তায় অংশ নিয়েছে। শুকনো খাবারের পাশাপাশি পশুখাদ্যও বিতরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসআ) সাবেক জেলা সভাপতি জিয়া উদ্দিন বলেন, তাদের প্রতিনিধি দল সাতকানিয়া ও বাঁশখালী এলাকায় গিয়ে বন্যার্তদের মধ্যে মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানি, পাউরুটি, গুড়, স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিশু খাদ্য, প্যারাসিটামল, স্যালাইন, ডায়রিয়া ও অ্যালার্জির ওষুধ, মোমবাতি এবং দিয়াশলাই বিতরণ করেছে।
আরেক স্বেচ্ছাসেবী সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিক সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।