
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-এ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী-এর বিরুদ্ধে পরীক্ষা না দিয়ে পাস করার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঐশী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়েই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ফলে পরীক্ষা না দিয়ে পাস করা কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ ওঠার পর ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত শুক্রবার কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐশীর মিডটার্ম পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরীক্ষাটি নিয়েছিলেন অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক অধ্যাপক রুহুল আমিন। ফলে ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও তদন্তে সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, পরীক্ষা না দিয়েই পাস করা এবং ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ঐশী নির্ধারিত সময়ের পরে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং সেই পরীক্ষার ভিত্তিতেই তিনি পাস করেন।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মিডটার্ম পরীক্ষা পরে দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে বর্তমানে সেই নিয়ম আর কার্যকর নেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, পরীক্ষা না দিয়ে পাস করানোর অভিযোগ তদন্তে টেকেনি। কমিটির অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েই পাস করেছেন।
সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যেত। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর গণিত বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। ওই পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই তাকে পাস করানো হয়েছে—এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপরই বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং সেই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।