
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, চলতি সপ্তাহে পরিচালিত তৃতীয় দফার সামরিক অভিযানে ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, এর জবাবে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় জাহাজের একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ হন এবং জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগায় এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি, গোলাবারুদের গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এটি আগের দুই দফা অভিযানের তুলনায় বড় পরিসরের অভিযান।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আইআরজিসি দাবি করেছে, ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জন্য ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ ও জ্বালানি স্থাপনায় তারা ভারী হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, এতে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে পরিচালিত তাদের তৃতীয় ধাপের পাল্টা অভিযান।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সেখানে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও কমান্ড সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তারা আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এছাড়া ইরানের পক্ষ থেকে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদের গুদাম ও একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উভয় পক্ষের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।