
উজানের ঢল এবং টানা ভারি বৃষ্টির কারণে আবারও বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চল এবং ভারতের উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কয়েকটি নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীগুলোতে প্রবাহিত হয়ে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট এবং গাইবান্ধা জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে পাউবো।
যদিও শনিবার পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রামের তালুক শিমুলবাড়ী ও সেতু পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী আগে থেকেই সংগ্রহে রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও শুকনা খাবারের মজুদ নিশ্চিত করার কাজও চলছে।
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, যেসব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামতের কাজও চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢল এবং স্থানীয় ভারি বৃষ্টিপাত একসঙ্গে হলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং পরিস্থিতির নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।