
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে আবারও ‘খাস আদায়’ শুরু হওয়ায় চালক, পরিবহন মালিক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে, পৌর অটোস্ট্যান্ড থেকে প্রতিটি যানবাহনের কাছ থেকে ২০ টাকা করে খাস আদায় করা হচ্ছে এবং এটি পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তবে যেখানে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, সেটি মহাসড়ক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় এই এলাকায় সব ধরনের অর্থ আদায় বন্ধ ছিল। সম্প্রতি মাইকিং করে আবারও কার্যক্রম চালু করা হলে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মাইকিংয়ে বলা হচ্ছে, পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করার জন্য এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে ২০ টাকার রসিদ দিয়ে অর্থ আদায়ের কারণে অনেকেই এটিকে টোল বা চাঁদাবাজির সঙ্গে তুলনা করছেন।
অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য পরিবহনের একাধিক চালক অভিযোগ করে বলেন, মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে এভাবে টাকা আদায় তাদের আয় কমিয়ে দিচ্ছে। গত কয়েক মাস তারা কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ না দিয়েই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছিলেন। নতুন করে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তাদের আর্থিক চাপ বেড়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, ঈশ্বরগঞ্জ একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র বা ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা। সরাসরি খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহউদ্দিন বিশ্বাস জানান, এটি কোনো চাঁদাবাজি নয়; বরং পৌরসভার স্বার্থে নিয়মিত খাস কালেকশন করা হচ্ছে। ইজারা ছাড়া কেন এই পদ্ধতিতে অর্থ আদায় করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আগেও তো ছিল।"
মহাসড়কে স্ট্যান্ড পরিচালনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশাসকের বক্তব্য, যেখানে অর্থ আদায় করা হচ্ছে সেটিও স্ট্যান্ডের অংশ।
এদিকে পরিবহন মালিক, চালক ও স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে অর্থ আদায়ের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় এটি সাধারণ চালকদের জন্য বাড়তি হয়রানি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে