
পৌষের শেষপ্রান্তে এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম কম তাপমাত্রা। এর আগে বছরের শেষ দিনে গোপালগঞ্জে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
বর্তমানে দেশের অন্তত ১০টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজশাহীতে কুয়াশা খুব ঘন না হলেও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষজন পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। শীতজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ—নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
রিকশাচালক ফিরোজ আলী বলেন, সকালে আর বিকেলে ঠান্ডায় শরীর অবশ হয়ে আসে, কিন্তু কাজ না করলে সংসার চালানো অসম্ভব।
একই চিত্র চুয়াডাঙ্গাতেও। টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে সেখানে গত দুই সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা মিলছে খুব কমই। কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারদিক, সড়কে যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। জীবিকার প্রয়োজনে মানুষজন শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হচ্ছেন।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, রোববার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, ফলে শীতের দাপট কিছুটা কমবে। তবে নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নেই। জানুয়ারি মাসজুড়েই শীত থাকবে, যদিও তীব্রতা সময়ভেদে কমবেশি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কুয়াশার কারণে দিনের ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। মঙ্গলবার এসব এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। ঢাকায় এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি।
অন্যদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারের টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
কুয়াশার কারণে বুধ ও শুক্রবার বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে দিনের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের অনুভূতি কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।