
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব নিশ্চিত করা হবে এবং বিষয়টি কখনোই ভুলে যাওয়া হবে না।
আইআরজিসির অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আহমাদ ভাহিদি বলেন, ন্যায়বিচারের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং এই হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি প্রধান বলেন, "আমেরিকার অপরাধী নেতাসহ ইসলামি বিপ্লব ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের সব শত্রুকে জেনে রাখা উচিত, এই ঐশী নেতাকে হত্যা করে তারা কখনোই প্রতিরোধের পতাকা মাটিতে নামাতে পারবে না।" তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ইরানের প্রতিরোধের মনোবল দুর্বল করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড ইতিহাস থেকে কখনো মুছে যাবে না। শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা ইরানের জন্য একটি বৈধ ও স্থায়ী দাবি হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। এর আগে চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ তিনি নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেছে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সর্বশেষ আইআরজিসি প্রধানের বক্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করল।
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি প্রধানের এই বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আইআরজিসি প্রধানের সর্বশেষ বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন এবং নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন।
এদিকে ইরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার আদর্শ অনুসরণ এবং প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দেশটির নেতৃত্বের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও আরও জোরদার করা হয়েছে।