
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি পরিকল্পনা ও সহযোগিতাকারীদেরও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রাথমিক অভিযোগে হত্যাচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের নির্দেশ দেন।
ডিবি জানায়, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো চিত্র আদালতের সামনে তুলে ধরতে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করেছে।”
তিনি আরও জানান, চার্জশিটভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে আদালতের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এ ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে।