
একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও পথের ভিন্নতা থাকাই স্বাভাবিক। তবে এসব পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একটি অভীষ্ট লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আর সেই লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্র।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের মতের পার্থক্য থাকবে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য না থাকলে তা গণতান্ত্রিক হয় না। মতের পার্থক্য থাকবে, পথের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু এক জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি সেই অভীষ্ট জায়গাটিকে গণতন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু স্রোত রয়েছে। প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, “বহু স্রোত যেন মোহনায় এসে মেলে। আমাদের অনেক স্রোত থাকতে পারে, কিন্তু মোহনা একটি—সেটি হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যেকোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।”
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ও অনন্য সময়। তিনি বলেন, “একটি ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি আমাদের দীর্ঘ যাত্রাপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা, তা গত ৫৩ বছরে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবুও বাংলাদেশের নাগরিকরা গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসেননি।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আজ এই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হচ্ছে। তিনি জানান, একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় এক বছর ধরে পারস্পরিক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে এই সনদে উপনীত হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদকে কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি হিসেবে না দেখে নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক শক্তির একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন—তাঁদের প্রত্যেকের অবদানের মধ্য দিয়েই এই সনদ তৈরি হয়েছে।”
রাষ্ট্র সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দলিলই সবকিছুর নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই জাতীয় দলিল বাস্তবায়িত হবে এবং নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেবে।