
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কও প্লাবিত হয়ে অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ও মেরুং এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে সেখানে অবস্থানরত চার শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
অন্যদিকে, মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি কালোপাহাড় জামতলী এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কেও গত রাত থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, চেঙ্গী নদীর পানি কিছুটা কমলেও মাইনী নদীর পানি আরও বেড়েছে। জেলা সদরের কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আংশিক কমলেও বেতছড়ি মার্মাপাড়া, বিচিতলা, লার্মাপাড়া ও বটতলা এলাকার বিভিন্ন স্থানে এখনও পানি জমে রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
বন্যা ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ইতোমধ্যে দীঘিনালার কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং পানি কমে গেলে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।