
দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া সফরে যাচ্ছেন। আগামী রবিবার (১১ জানুয়ারি) তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন। ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। এই সফরকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বগুড়া বিএনপির কাছে এই সফরের গুরুত্ব আরও গভীর। কারণ, এই জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি। বাবার জন্মভূমিতে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বগুড়াবাসী দেখছেন আবেগ, আশা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বঞ্চনা, উন্নয়ন স্থবিরতা ও রাজনৈতিক উপেক্ষার অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশাই এখন বগুড়ার মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন জানান, ১১ জানুয়ারি তারেক রহমান বগুড়ায় পৌঁছে রাতযাপন করবেন। পরদিন ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় তিনি বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়ায় অংশ নেবেন।
গণদোয়া শেষে তারেক রহমান শহরের সাতমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালি হয়ে মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানান, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়া সফর করেছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর আবার তিনি বগুড়ার মাটিতে পা রাখছেন। এ উপলক্ষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তার জন্য একটি নিজস্ব অফিস তৈরি করা হচ্ছে। বগুড়ার একটি স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী দিয়ে অফিসটির আধুনিক নকশা করা হয়েছে এবং নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জানান, রাজনীতিতে তারেক রহমানের হাতেখড়ি হয়েছিল বগুড়ার গাবতলী উপজেলা থেকেই। পরবর্তীতে গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি চালু করে তিনি বগুড়াকে বিএনপির একটি সাংগঠনিক মডেল জেলায় রূপান্তর করেন।
দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়, বিএনপি সরকারের সময় বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্প্রসারণ, গ্যাস সরবরাহ এবং নগর উন্নয়নে তারেক রহমান সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গত ১৭ বছরে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প থেমে যায়।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “তারেক রহমানের আগমন বগুড়ার জন্য নতুন আশার বার্তা। তার হাত ধরেই বগুড়ার উন্নয়ন আবার গতি পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”