
প্রায় সাত দশক পর ১৯৫৫ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্রিটেনের শেষ নারী রুথ এলিস-এর সাজা প্রতীকীভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সরকারের পরামর্শে রাজা তৃতীয় চার্লস তার মৃত্যুদণ্ডের রায় পরিবর্তন করে প্রতীকীভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ দেন। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার স্বীকার করেছে যে, রুথ এলিস একটি ‘ঐতিহাসিক অবিচারের’ শিকার ছিলেন।
ব্রিটিশ সরকারের নতুন পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, রুথ এলিস দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের শিকার ছিলেন। সরকারের মতে, বর্তমান সময়ে একই ধরনের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হলে মামলাটির বিচার ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারত। সে সময় বিচার প্রক্রিয়ায় এসব গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় ৭০ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে এখন অন্তত এটুকু স্বীকার করা যায় যে, রুথ এলিসের সঙ্গে অন্যায় হয়েছিল। তিনি জানান, এই শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা ও সাজা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মানবিকতার প্রতীক এবং এতে রুথ এলিসের পরিবারের সদস্যরা কিছুটা হলেও মানসিক স্বস্তি পাবেন বলে সরকার আশা করছে।
রুথ এলিসের চার নাতি-নাতনি তার সাজা পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। এর আগে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে তার বোন মুরিয়েল ইয়াকুবাইট আদালতের মাধ্যমে হত্যার রায় পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা নয়, বরং উসকানির প্রেক্ষিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তবে সে সময় সেই আবেদন সফল হয়নি।
যুক্তরাজ্যে রাজা বা রানি বিশেষ রাজকীয় ক্ষমতার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে ক্ষমা করতে বা তার সাজা পরিবর্তন করতে পারেন। তবে এই ক্ষমতা সাধারণত সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রয়োগ করা হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ১৯৬৫ সালে বাতিল করা হয়। যদিও মৃত্যুদণ্ডের আইন আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল, ১৯৬৪ সালের পর আর কোনো হত্যাকাণ্ডের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। রুথ এলিস ছিলেন ব্রিটিশ ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সর্বশেষ নারী।