
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাদের সামরিক দখল ও হামলা নতুন করে বিস্তৃত হয়েছে। গাজার পূর্বাঞ্চলে তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে তুফাহ, শুজাইয়া ও জেইতুন এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারকে ছোট ছোট এলাকায় গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, সোমবার ইসরাইলি সেনাদের এই অগ্রগতি সালাহুদ্দিন সড়কের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে পূর্বাঞ্চলের আশ্রয় নেওয়া বহু পরিবারকে নতুন করে এলাকা ছাড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, “মানুষ এখানে দ্বিগুণ নয়, তিনগুণ হয়ে গেছে। কেউই নিজ এলাকায় ফিরতে পারছে না।”
মাহমুদ আরও জানান, রোববার রাত থেকে গাজা সিটিতে ড্রোন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সোমবার সকালে কিছু সময়ের জন্য তা কমলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। একই দিনে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সেনারা ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও হেলিকপ্টার হামলা চালায়। রাফাহ এবং খান ইউনুস শহরের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়।
চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খান ইউনুসে পৃথক এক হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে আল-শানা পরিবারের পাঁচতলা একটি ভবন ধসে পড়ে। ভবনটি ২০২৩ সালের শেষ দিকে চালানো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্স দল কাজ করছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলার সম্ভাবনা গাজাবাসীর মধ্যে আশার পাশাপাশি গভীর উদ্বেগও সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, সীমান্ত খুললে আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে এবং বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলো একত্রিত হতে পারবে। তবে একই সঙ্গে আশঙ্কা রয়েছে, সীমান্তটি ‘একমুখী প্রস্থান’-এ পরিণত হতে পারে, যার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ২৬৪ জন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত তিন মাসেও ৪২০ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজার সীমান্তে বিপুল আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা আটকে রেখেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থা বলছে, সহায়তার অভাবে গাজায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।